স্বাস্থ্যকর শরীর স্বাস্থ্যকর জীবন

Healthy body Healthy life

স্বাস্থ্যকর শরীর স্বাস্থ্যকর জীবন

“স্বাস্থ্যকর শরীর স্বাস্থ্যকর জীবন” প্রতিটি মানুষের জীবনের সবথেকে আকাঙ্ক্ষিত এবং তা পাবার জন্যই সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন । শুধুমাত্র বেশি বেশি শারীরিক সুস্থতার প্রতি আমাদের স্বভাবজাত সচেতনতা থাকলেও, মানসিক স্বাস্থ্যের বেলায় অধিকাংশ সময় থাকে অবহেলিত । আবার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর থাকলেও অনেক সময় পরিবেশগত বৈরিতা ও অপ্রতিরোধ্য রোগের সংক্রমণে মানব দেহ অসুস্থ এবং অচল হয়ে পড়ে । তাই শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমানভাবে অতি জরুরী এবং সুস্থ দেহের জন্য সুন্দর মন আরও জরুরি । 

শরীর ভালো থাকলে যেমন কাজের স্পৃহা, উদ্যম, আগ্রহ, অনুপ্রেরণা বাড়ে তেমনি এর সাথে মনও থাকে ফুরফুরে ও সতেজ । স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বা জটিল কোন রোগে আক্রান্ত হলে আমরা চিকিৎসায় বিশ্বাসী অর্থাৎ কিছু হলেই সেটা নিবারণে জন্য চেষ্টা করি । অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে দৌড়াই, হরেক রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে আর ওষুধ খেতে বাধ্য হই । 

আবার জটিল কোন রোগ হলে সর্বক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, জীবনের সুখ শান্তি নষ্ট হয়, টাকা-পয়সার অপচয় হয় । জীবনে নেমে আসে কষ্ট আর দুর্ভোগ, জীবন তখন আর স্বাভাবিক নিয়মে চলে না । কিন্তু একটু সচেতন হয়ে যদি হাতে গোনা কয়েকটি নিয়ম মেনে রোগ প্রতিরোধে সচেষ্ট হই, তবেই জীবনকে আমরা সত্যিই সুস্থ ও সুন্দর রাখতে পারি । একেবারে ফিট থাকতে গেলে প্রত্যেকেরই কিছু নিয়ম চলতে হবে । সুস্থ থাকার কিছু সূত্র আছে, আসুন জেনে নেই সেগুলো কি কি……………

১। সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ও পরিমিত ঘুম প্রয়োজন । দিনের বেলায় ঘুমানোর অভ্যাস কমিয়ে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন । প্রতি দিন ছয় থেকে সাত ঘন্টা ঘুমের অভ্যাস ভালো । ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক ।

২। সকালে স্কুল, কলেজ, অফিসে বা যেকোনো কাজে যাওয়ার আগে গোসল সেরে নেওয়া উচিত ।

৩। শারীরিকে সুস্থ, সবল ও সতেজ রাখার জন্য শারীরিক পরিশ্রম, হাটাহাটি, ব্যায়াম ও সাঁতারের চেষ্টা করুন । নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও বিশ্রাম সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরী ।

৪। প্রতিদিন সময় করে হাঁটার চেষ্টা করুন । মনে রাখবেন হাঁটা সর্বোৎকৃষ্ট ব্যায়াম । নিয়মিত অন্তত 30 মিনিট থেকে 1 ঘন্টা হাঁটার অভ্যাস করুন । যাদের মেদভূড়ি আছে তারা নিয়মিত ও সঠিক ব্যায়াম করতে পারেন । এর জন্য একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে । মনে রাখবেন, ভুল ব্যায়াম ও অনিয়ন্ত্রিত “ জিম এক্সারসাইজ” আপনার সমস্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে ।

৫। অসুস্থতা এবং রোগ সংক্রমণ এড়ানোর সবথেকে ভালো একটা উপায় হলো খাবার আগে নিয়মিত ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা ।

৬। নিয়মিত, পরিমিত, সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন । খাবার তালিকায় আঁশযুক্ত খাবার রাখা উচিত । আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে আনুন । ফাস্টফুড বা রাস্তাঘাটে উন্মুক্ত খাবার সম্পূর্ণ বন্ধ করুন । লাল মাংস ( চার পা বিশিষ্ট পশুর মাংস), মিষ্টি, ঘি, চর্বি জাতীয় খাদ্য কম খান । ফলমূল ও শাকসবজি বেশি করে খাদ্য তালিকায় রাখুন । একবারে বেশি করে খাওয়ার থেকে অল্প অল্প করে বারবার খেতে পারেন ।

৭। মানুষের  অসুস্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে বেপরোয়া হওয়া । এজন্য অতিভোজন ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য থেকে বিরত থাকা জরুরী ।

৮। খাবার গ্রহণের সময় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা উত্তম । পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য দ্বারা, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ খালি রাখা উচিত ।

৯। যাদের শরীরের ওজন বেশি, তারা খাবার গ্রহণের আগে শশা, টমেটো সহ সালাদ জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন । এর ফলে খাবারের পরিমাণ কম লাগবে ।

১০। খাবার সময় মাঝে মাঝে পানি পান না করে, খাওয়ার অন্তত আধা ঘন্টা পর পানি পান করবেন । খাবার পানি যেন অবশ্যই বিশুদ্ধ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন ।

১১। ধূমপান, তামাকজাত দ্রব্য, অ্যালকোহল এবং অন্যান্য মাদক দ্রব্য পরিহার করুন ।

১২। ইন্টারনেট ব্যবহারের সংযত হোন । এতে শারীরিক অলসতা যেমন বাড়ে তেমনি শারীরিক অস্থিরতা বাড়তে পারে ।

১৩। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় ও করুন । স্ত্রী-পুত্র, মা-বাবাকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন । তাদেরও শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন ।

১৪। কাজে ব্যস্ত থাকাটা শরীর ও মন দুইয়ের পক্ষেই ভালো । পেশাগত কোনো সমস্যা থাকলে সে সমস্যাকে মেটানোর চেষ্টা করুন । এতে মানসিক প্রশান্তি লাভ করবেন ।

১৫। পজিটিভ চিন্তা করুন এবং বই পড়ুন । কোন শখ গড়ে তুলুন, নতুন কিছু করুন ।

১৬। অতিরিক্ত টেনশন, বিষন্নতা, মানসিক চিন্তা পরিহার করুন ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকুন এবং ভালো কাজে সক্রিয় থাকুন ।

১৭। নিজের কাছে সৎ থাকুন । নিজ নিজ ধর্মীয় চর্চায় মনোনিবেশ করুন, এতে মনের শান্তি আরো বাড়বে । সুশৃংখল জীবনযাপন করুন, নিজের উপর ভরসা রাখুন ।

১৮। কথা বলার চেষ্টা করুন । আপনার কথায় কেউ যেন মানসিক না পায় সেটা মাথায় রেখেই কথা বলুন ।

১৯। পরিষ্কার পরিছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপনের অন্যতম উপায় ।

২০। “স্বাস্থ্যকর শরীর স্বাস্থ্যকর জীবন” গড়ার লক্ষ্যে প্রতিজ্ঞা করাটা একান্ত জরুরী ।

সুস্থ শরীর তার সঙ্গে শান্তিময় জীবন লাভ করতে কে না চায়? কিন্তু বিশৃঙ্খলার আড়ালে অনেক সময় জীবনটাই এলোমেলো হয়ে যায় । না থাকে শান্তি, না থাকে স্বস্তি । উপরের পরামর্শগুলো মেনে চললে যেমন সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, তেমনি সর্বোপরি শরীরের স্বাভাবিক সুস্থতা বজায় থাকবে ।।



Post a Comment

0 Comments

Close Menu